ArticleIDPicAddressSubjectDate
{ArticleID}
{Header}
{Subject}

{Comment}

 {StringDate}
 
 
 
 
 
 
 
ViewArticlePage
 
 
 
  • রাজনীতির স্বার্থে ধর্ম ও ধর্মের স্বার্থে রাজনীতি  
  • 2010-02-26 9:43:16  
  • CountVisit : 459  
  • Sendtofriend
  •  
  •  
  • রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করার কথা বড্ড জোরে-শোরে বলেন বালাদেশের ন্যায় মুসলিম দেশের বহু সেকুলার রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবি। ভাবটা যেন, কোনটি ধর্মসম্মত আর কোনটি ধর্ম-বিরোধী এ বাছবিচারের দায়ভারটি তাদের। রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার শুধু নিন্দনীয়ই নয়, জঘন্য অপরাধও। বাংলাদেশের মত দেশে ধর্মের অপব্যবহার যে শুধু রাজনীতিতে হচ্ছে তা নয়, হচ্ছে আয়-উন্নতি বাড়ানোর লক্ষ্যেও। ধর্ম ব্যবহৃত হচ্ছে সামাজিক মর্যাদা ও প্রতিপত্তি বাড়ানোর কাজেও। ধর্ম পালনে আন্তরিক না হয়েও এরা ধার্মিক সাজে, জনসম্মুখে ধর্ম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বড় কল্যাণকামী সাজে। মহান আল্লাহতায়ালার কাছে এমন ভন্ড ধার্মিকগণ বড়ই ঘৃনিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, “হে ঈমানদারেরা, তোমরা তা বল কেন যা করনা? আল্লাহর কাছে কঠিন অপছন্দের হল যে তোমরা এমন কথা বল যা তোমরা করনা” সুরা সাফ আয়াত ২। কোন ব্যক্তি বা সরকারের সামর্থ্য থাকলে ধর্মের সাথে এমন প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।

    এমনটি হলে তা হবে অতি প্রশংসনীয়। এতে ধর্মের যেমন কল্যাণ, তেমনি কল্যাণ ব্যক্তি, দেশ ও মুসলিম উম্মাহর। কারণ এতে তখন বন্ধ হবে ধর্মের নামে ধোঁকাবাজি ও ধর্ম নিয়ে বাণিজ্য। কিন্তু প্রশ্ন হল এ কাজে কারা লিপ্ত? এ কাজ যে শুধু ধর্মের লেবাসধারি ভন্ড ধার্মিকদের দ্বারা হচ্ছে তা নয়, হচ্ছে রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবীদের দ্বারাও। ধর্ম-কর্মে ও ধর্মের প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক না হয়েও কারা নানা উপলক্ষে ধার্মিক সাজে সেটি কি এতটাই অজানা? নির্বাচন-কালে কারা মাথায় টুপি বা কালো পট্টি বাঁধে এবং হাতে তসবিহ নেয় আবার নির্বাচন শেষে এসব দূরে ফেলে দেয়? কারা মসজিদের আযান শুনেও নামাজে দাড়াঁয় না, অথচ তাবলিগ জামাতের এজতেমায় দোয়ার মজলিসে ঘোষণা দিয়ে হাজির হয় বা মাথায় কাপড় নেই এমন বেপর্দা অবস্থায় কবর জেয়ারতে হাজির হয়? অথচ আযান শুনেও মসজিদে নামাযে না যাওয়াটি হল আল্লাহর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ। একই রূপ বিদ্রোহ হল মাথায় কাপড় না দিয়ে বা বেপর্দা অবস্থায় একজন মহিলার জনসম্মুখে বেড়িয়ে আসা। তাবলিগ জামাতের দো্য়ার মজলিসে হাজির না হলে কারো কোন গোনাহ হয় না। কিন্তু আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হল কুফরি, এমন কুফরি জাহান্নামের আযাব ডেকে আনে।

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার হচ্ছে অহরহ। ধর্ম-কর্মে আন্তরিক না হলেও ধর্মের নাম বার বার নেওয়া হয়। লক্ষ্য রাজনৈতিক ফায়দা লাভ। এ লক্ষ্যে মতলববাজেরা ঘন ঘন ছুটে পীরের দরগায়। শুধু মিলাদেই নয়, তারা মন্দির বা বৌদ্ধবিহারেও হাজির হয়। নবী (সাঃ)-এর আদর্শে সামান্য আগ্রহী না হয়েও মৌসুম বুঝে নসিহত করেন সে আদর্শ অনুকরণের। পূজার মৌসুমে এরাই শ্রীকৃষ্নকে অনুপম আদর্শ বলেন। আবার বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়েও পূজনীয় বলেন গৌতম বৌদ্ধকে। এরা যে ব্যবসায়ী তা ধরা পড়ে এদের এহেন মতলবী কর্মকান্ডে। আসলে এরা বিশ্বাসী নয় কোন আদর্শেই, আন্তরিক শুধু নিজেদের স্বার্থ হাসিলে। তাদের লক্ষ্য নিছক ক্ষমতালাভ। এ লক্ষ্যে যেখানে ভোট সেখানেই তাদের রাজনীতি, এবং যেখানে ইস্যু সেখানেই আন্দোলন। আল্লাহর আইনের প্রতিষ্ঠা ও ইসলামের বিজয় নিয়ে তাদের সামান্যতম আগ্রহ নেই, বরং লক্ষ্য হল সে বিজয়কে অসম্ভব করে তোলা। তাই “আমরাও মুসলমান” – এ দাবীতে এসব ভন্ডব্যক্তিবর্গ যতই সোচ্চার হোক না কেন, সে দাবীর ভিত্তিতে তাদের সত্যবাদী হওয়াটি প্রমাণিত হয় না। কে ঈমানদার আর কে বেঈমান সেটি কারো কথার ভিত্তিতে হয় না, সে বিচার হয় তার নিষ্ঠা ও কোরবানীর ভিত্তিতে। এব্যাপারে মহান আল্লাহতায়ালার ঘোষণাটি হল, “একমাত্র ঈমানদার হল তারাই যার আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনলো, ঈমান আনার পর আর সন্দেহ পোষন করলো না এবং আল্লাহর পথে তাদের ধন-সম্পদ ও প্রাণ দিয়ে জ্বিহাদ করলো। একমাত্র তারাই ঈমানের ব্যাপারে সত্যবাদী।” – সুরা হুজরাত, আয়াত ১৫। পবিত্র এ আয়াতের অর্থ দাঁড়ালো কি? অর্থটি সুস্পষ্ট। আর তা হল, যার মধ্যে ইসলামের বিজয় তথা আল্লাহর আইন বা শরিয়তের প্রতিষ্ঠায় নিজ সম্পদ ও প্রাণের কোরবানী নেই অর্থাৎ জ্বিহাদ নেই, তার ঈমানদারীর দাবীর মধ্যে কোন সত্যবাদীতাও নেই। ধর্মের ব্যাপারে এরাই হল আসল ভন্ড। এরাই প্রতি জনপদে ধর্মব্যবসায়ী সাজে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনার দাবী এরা মুখে করলেও ইসলামের বিধানকে ১৪ শত বছরের পুরনো বলে আধুনিক যুগে তার প্রয়োগ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে। শুধু সন্দেহের মাঝেই তাদের ক্রিয়াকান্ড সীমাবদ্ধ নয়, আল্লাহর বিধানের প্রতিষ্ঠা রুখতে বিণিয়োগ করে তাদের সময়- শক্তি-প্রতিভা ও জানমালের। তাই এসব ভন্ড ধর্মব্যবসায়ীদের মুখ থেকে “আমরাও মুসলমান” এ দাবী যতই জোরে শোরে শোনা যাক না কেন তাতে বাংলাদেশের ন্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশেও আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে না।

    রাজনীতি কি? এটি হল বিশেষ ধ্যান-ধারণা ও বিশ্বাসের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রক্রিয়া। সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঙ্খিত পরিবর্তনে এটা এক অনিবার্য মাধ্যম। তাই ধ্যান ধারনা ও বিশ্বাসভেদে রাজনীতিতেও বিভিন্নতা আসে। ঈমানদারের ও বেঈমানের রাজনীতি এ জন্যই এক নয়। যেমন এক নয় স্বৈরাচারী ও গণতন্ত্রীর রাজনীতি। মুসলমানের ও অমুসলমানের রাজনীতিও যে এক নয় সেটিও এ কারণেই। নিছক বাঁচবার লক্ষ্যে মানুষকে আল্লাহ্‌ সৃষ্টিও করেননি। কোরআনের কথা ‘‘ওয়া মা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনসানা ইল্লা লি ইয়াবুদুন।” অর্থঃ ‘নিশ্চয়ই জ্বিন ও মানুষ আমার এবাদত করবে -এভিন্ন অন্য কারণে তাদের সৃষ্টি করিনি। ফলে এবাদতই মুসলমানের সকল ক্রিয়া-কর্মের মূল। ফলে যেখানে ইবাদত নেই সেখানে ব্যর্থ হল সৃষ্টির মূল্য লক্ষ্যটিই। ঈমানদারের প্রতিকর্মে ধর্মের প্রেরণা মূলতঃ এ কারনেই। তাই ধর্ম যোগ হয় তার রাজনীতিতেও। ফুলের সাথে অবিচ্ছেদ্য হল তার খোশবু। এটাই প্রকৃতিগত স্বভাবসুলভতা। তেমনি ধার্মিকের জীবনও অবিভাজ্য হল ইসলামের বিজয়ে তার অঙ্গিকারবদ্ধতা। কি ব্যবসা-বানিজ্য, কি অফিস পরিচালনা, কি রাজনীতি যেখানেই তার পদচারণা সেখানেই আগমন ঘটে ধর্মের। জায়নামাজে ধর্ম ফেলে রেখে সে কর্মে যায় না, রাজনীতিতেও নয়। ইসলাম তার বিশ্বাস, কর্ম, নৈতিকতা ও অভ্যাসের অবিচ্ছেদ্য উপাদান। ইসলামের স্বার্থেই তার বাচাঁ-মরা, চেষ্টা-প্রচেষ্টা এবং রাজনীতি। রাজনীতির স্বার্থে তার ধর্ম নয় বরং ধর্মের স্বার্থেই তার রাজনীতি। এ কারনেই রাজনীতি মুসলমানের নেশা নয়, বাতিক নয়, এমনকি পেশাও নয়। বরং এটি হল তার বাঁচবার একমাত্র লক্ষ্য, তার সকল সাধনার আমৃত্যু অবলম্বন। তার কর্মে ও অবসরে, ধ্যানে ও অধ্যয়নে, সমগ্র চেতনা ও অস্তিত্বজুড়ে এটিই বিমূর্ত। সে খায়, সে কাজ করে - এসবই করে বেঁচে থাকার জন্য। এবং সে বেচে থাকার্ও উচ্চতর লক্ষ্য থাকে। এবং বেঁচে থাকার সে উচ্চতর ও মহ্ত্তর লক্ষ্যটি হল, আল্লাহ্‌র কাঙ্খিত লক্ষ্যে জীবনকে বিলিয়ে দেয়া। তাই কোন মুসলমান রাজনীতিতে নির্জীব হতে পারে না।সেটি সম্ভব একমাত্র ঈমানহীনতাতেই, ঈমানের উপস্থিতিতে নয়। এমন ঈমানহীনতাতেই আল্লাহ্‌র দ্বীনকে বিজয়ী করার আগ্রহ থাকে না, তখন আগ্রহ থাকে না আল্লাহ্‌র পক্ষ লড়াইয়ের। রাজনৈতিক চেতনার মৃত্যুর সাথে তখন মৃত্যু ঘটে ঈমানেরও। নবীজীর (সাঃ) যুগে ঈমান এনেছে অথচ রাজনৈতিক লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেননি এমন নজিরই নেই। ফলে তখন কোন বিশেষ শ্রেণী বা অভিজাতদের হাতে রাজনীতি জিম্মি থাকে নি, বরং তাতে সংশ্লিষ্টতা ঘটেছে সবার। এটিই ছিল ঈমানদারদের জিহাদ। নামায রোযার মত এটিতে অংশ নেয়াও প্রতিটি মুসলমান সেদিন অপরিহার্য ভাবতো। নামায রোযার লক্ষ্যই হল আল্লাহ্‌র উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে আত্নসমর্পনের সামর্থ সৃষ্টি। মহান আল্লাহর সে উদ্দিষ্ট লক্ষ্যটি হলঃ ‘‘লিইয়ুযহিরাহু আলা দ্বীনে কুল্লিহি।’’ অর্থাৎ সমগ্র বিশ্বে আল্লাহ্‌র দ্বীনকে বিজয়ী করা। বিজয়ের সে আগ্রহ নিয়ে রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট না থাকলে কাউকে সেদিন মুসলমানই ভাবা হত না। অবশ্য এরিস্টটল রাজনীতিতে অঙ্গীকারহীন ব্যক্তিকে মানবিক জীব ভাবতেই রাজী নন। মানুসকে তিনি সজ্ঞায়িত করেছেন পলিটিক্যাল এ্যানিমেল বা রাজনৈতিক জীব রূপে। ফলে রাজনীতি লোপ পেলে অবশিষ্ট থাকে শুধু জীবত্ব, মানবত্ব নয়। তাই মানুষ কতটা উন্নত কতটা মানবিক সেটির বিচার হয় সে কতটা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ও সচেতনতা থেকে। মুসলমানের মাঝে এ সচেতনতাটুকু না থাকলে তাকে কি মুসলমান বলা যায়?

    ধর্ম নিয়ে ব্যবসা বন্ধ হওয়া উচিত। বাংলাদেশের ন্যায় একটি মুসলিম এর সুফলটি হবেঃ যারা নিষ্ঠাবান এবং ইসলামের বিজয়ে যারা অর্থ, শ্রম ও রক্তদানে আগ্রহী তেমন নিষ্ঠাবানরাই তখন ময়দানে থাকবে। আগুন থেকে যেমন তার উত্তাপকে পৃথক করা যায় না, তেমনি পৃথক করা যায় না সত্যিকার ঈমানদার থেকে তার রাজনীতিও। রাজনীতি মোমেনের মজ্জাগত, শাসকের রক্তচক্ষু বা হুমকি-ধমকিতে সেটি বিলুপ্ত হয় না, যেমনটি বন্ধ হয়নি নমরুদ, ফিরাউন, আবু লাহাব ও আবু জেহেলের আমলে। ক্ষমতালিপ্সু রাজনীতিকেরা সব সময়ই ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার করেছে। প্রয়োজনে ধর্মের লেবাস পরেছে, প্রয়োজন ফুরালে সেটি ফেলেও দিয়েছে। মুখে ধর্মের দোহাই, অথচ বাস্তবে ধর্মের মূলোৎপাটনে আপোষহীন, এটিই তাদের নীতি। ইরানের অপসারিত মুহম্মদ রজা শাহ্‌ মহররমের দিনে মাতমের অভিনয় করেছে, অথচ দেশ জুড়ে ধর্মের শিকড় কেটেছে। পর্দাকে সে নিষিদ্ধ করেছিল আর অবাধ করেছিল মদ-জুয়া ও ব্যভিচারকে। এজিদের চেয়েও নিষ্ঠুর হয়েছে আলেমদের বিরুদ্ধে। একই লক্ষ্যে ফিরাউন শুধু ধর্মের প্রতিষ্ঠাতাই সাজেনি, খোদাও সেজেছে। মোঘল বাদশাহ আকবর সেজেছে ধর্মের অবতার, প্রতিষ্ঠা করেছিল দ্বীনে ইলাহী নামে এক নতুন ধর্মের।

    বাংলাদেশের মত দেশে সেকুলার নেতাদের রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করবেন এ ঘোষনার মধ্যে যতটা রাজনৈতিক মতলব আছে ধর্মের প্রতি ততটা অঙ্গীকার আছে কি? তাদের এমন বক্তব্যে সংশয়ের যথেষ্ট কারণও রযেছে। এসব সেকুলার নেতাদের অনেকে দাড়ী রাখেন, টুপিও পড়েন। অথচ যে নবীজী (সাঃ)র দাড়ী-টুপিকে তারা লেবাস বানিয়েছেন সে নবীর আদর্শের প্রতি সামান্যতম আগ্রহ থাকলে সে আদর্শের প্রতিষ্ঠায় তারা আন্তরিক হতেন। তাদের অজানা নয় যে বাংলাদেশে এখনও বৃটিশের আইন। এটিও জানা কথা, অনৈসলামিক এ আইনের প্রয়োগ শুধু অপরাধই নয়, কুফরীও। এমনটি চলতে দেয়ার অর্থ, আল্লাহ্‌র আইনের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি অস্বীকৃতি ও অবমাননা। মহান আল্লাহ্‌র দেয়া এ আইনের প্রতি এমন বিদ্রোহ আর যাই হোক আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমানদারী প্রমাণিত হয় না। এবং জাতিরও মুক্তি ঘটে না ব্যভিচার, খুন, রাহাজানি, ধর্ষন তথা পাপাচরের সীমাহীন প্রকাপ থেকে। পাপাচারের প্রতিরোধে আল্লাহ্‌র আইনের চেয়ে সুন্দর আইন আর কি হতে পারে? মানবসৃষ্টির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো মহান স্রষ্টার চেয়ে আর কে অধিক জানে? অথচ এ দেশে উপেক্ষিত হচ্ছে মহান আল্লাহ্‌র শ্রেষ্ঠ সেই প্রেসক্রিপশন। সরকারী পক্ষ ও তাদের মিত্রদের দ্বারা আল্লাহ্‌র আইনের কোন কোন বিষয় আখ্যায়িত হচ্ছে মধ্যযুগের বর্বরতা বলে। তাদের কথাতে আজ ইসলামবৈরী বিধর্মীদের সুর। সরকারী পক্ষ ইসলামে আগ্রহ হলে এসব মৌলিক বিষয়গুলো কি তারা বোঝেন না? সেকুলারগণ তাদের ধর্মে অজ্ঞতা নিয়ে অগ্রসর হয়েছে সর্বঅঙ্গনে, তাদের প্রণীত আইনে অপরাধ না কমে বরং বেড়েই চলছে। মাথায় টুপি আর হাতে তসবিহ নিয়ে তারা আল্লাহ্‌র আইনের বিরোধীতাই শুধু নয় যাতে সে আইনের প্রতিষ্ঠা না হয় তারও ষড়যন্ত্র করেছে। ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করার হুংকার তাদের সে চেতনার বহিঃপ্রকাশ বৈ নয়।
    ধর্মকে যারা সত্যরূপে গ্রহণ করে, এ লক্ষ্যে বাঁচা-মরাকেই যারা জীবনের লক্ষ্যরূপে নির্ধারণ করে তাদের কাছে শাসকদল কি চায় বা ধর্ম অঙ্গীকারশুন্য সেকুলার বুদ্ধিজীবীগণ কি বলেন তার গুরুত্ব সামান্যই। ইসলামের বিরুদ্ধ শক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ধার তারা ধারেন না, বরং তারা পরিচালিত হন মহান আল্লাহ্‌ কি চান তা দিয়ে। অমুসলিমদের ভোট হারাবে এবং আন্তর্জাতিক ইসলাম-বিরোধী কোয়ালিশনের কোপানলে পড়বে এ ভয়ে অনেকে ইসলামের পক্ষে কথা বলতেই ভয় পায়। তারা সে ভয়ে বরং সচেষ্ট হয় ইসলামের প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে। বহু মুসলিম দেশের শাসক তাই সে কাজে প্রতিযোগিতায় নেমেছে পাশ্বাত্য শক্তির মন-জোগাতে। অথচ প্রকৃত ধার্মিকের কাছে ধর্মে অঙ্গীকারবদ্ধ না হওয়াটাই অধর্ম, পাপের প্রতিরোধে কিছু না করাটাই মহাপাপ। আর পাপের প্রতিরোধে রাজনীতির চেয়ে উত্তম মাধ্যম আর কি হতে পারে? আইন-আদালত, শিক্ষা-দীক্ষা, পুলিশ ও প্রচার মাধ্যম সবই তো রাষ্ট্রের হাতে। এসব পরিচালিতও হয় রাজনীতিকদের দ্বারা। তাই রাজনীতি না করে পাপের প্রতিরোধে কিছু করা কি সম্ভব? রাজনীতিহীন ধর্মকর্ম নবীজীর (সাঃ) সুন্নত নয়। নবীজীর (সাঃ) সুন্নত তো রাজনীতিতে সক্রিয় অংশ নেয়া। এ কাজে নিছক ভোট দান নয় বরং অর্থ, শ্রম ও রক্তদানেও অগ্রণী হওয়া। রাজনীতি এ জন্যই প্রকৃত ধার্মিকের ধর্মকর্মও বটে। এটি তার বাঁচবার আমৃত্যু প্রেরণা, সে সাথে প্রাণদানেরও। মুসলমান হয়েছে অথচ ইসলামের প্রতিষ্ঠায় লড়াই করেনি এমনটি নবীর (সাঃ) যুগে অকল্পনীয় ছিল। লড়াই ছাড়াই অসত্য-অন্যায়ের পূজারীরা নির্মূল হবে এটা কি সম্ভব? শুধু দাড়ী আর টুপি দেখে ইসলামের শত্রুরা ধর্মে অণুরাগী হবে বা ইসলামের বিজয় কেতন উড়াতে দেবে সেটা কি ভাবা যায়? রাজনীতির স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ হোক এ দাবীতো তাদেরও যারা ইসলামের পক্ষে। তবে এমনটি করতে হলে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত ভোটের লক্ষ্যে তসবিহ আর টুপির ব্যবহারও। কিন্তু ধর্মের স্বার্থে পরিচালিত হয় যে রাজনীতি সেটি রুখতে গেলেই বাধবে লড়াই। কারণ এমনটি হলে সেটি হবে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের উপর হামলা। এ লড়াইয়ে মার খাওয়াকে ঈমানদার সম্মান ভাববে, এর প্রতিরোধ গন্য হবে এবাদত। কোরআনের শিক্ষা এবং নবীর সুন্নততো এটিই। ফলে প্রবলতর হবে ইসলামের জিহাদ, এ লড়াইয়ে ইরানের প্রতাপশালী শাহ যেমন ভেসে গেছে তেমনি ভেসে যাবে এ দেশে ইসলামের যে কোন প্রতিপক্ষও। ধর্মের স্বার্থে রাজনীতির ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ার অর্থ মুসলমানের মুসলমান থাকাকেই অসম্ভব করে তোলা। আগুন থেকে আগুনের উত্তাপকে পৃথক করলে সেটি আর আগুন থাকে কি? মুসলমানতো সেই যার ঈমানের উত্তাপ দুনিয়াকেও উত্তপ্ত করতে চায়। ঈমানের এমন উত্তাপে বেড়ে উঠে দেশের রাজনৈতিক উত্তাপও। কোরআনের ভাষায় মোমেনের এ উত্তাপময় আলোর উৎস হল মহান আল্লাহ। আল্লাহই মোমেনের বন্ধু, তার নূরই তাকে বের করে আনে অসত্যের আধাঁর থেকে এবং পরিচালিত করে আলোর পথে। আর বেঈমানের পদচারণা তো অজ্ঞানতার অন্ধকারে। সেটিই ধ্বণিত হয়েছে পবিত্র কোরআনে। বলা হয়েছে ‘‘আল্লাহ ঈমানদারদের বন্ধু, এবং তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসেন। এবং যারা কাফের তাদের বন্ধু হল শয়তান এবং সে তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায় এবং তারাই হল জাহান্নামের বাসিন্দা যারা সেখানে চিরকাল থাকবে।” - সুরা বাকারা, আয়াত ২৫৭। ফলে যার ঈমান আছে, তার মধ্যে অন্ধকার থেকে আলোতে যাওয়ার আগ্রহ এবং সে সাথে সামর্থ্যও থাকে। তাই ইসলামের প্রসার বাড়লে রাজনীতিতে ঈমানী আলোর উত্তাপও বাড়ে। আর মুসলমানের রাজনীতি নিছক রাস্তা-ঘাট ও কল-কারখানা গড়ার রাজনীতি নয়, সেটি হল মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেওয়ার রাজনীতি। তাই এ রাজনীতি শুধু স্বৈরাচার থেকে মুক্তিই ঘটায় না, বিলুপ্তিও ঘটায় পাপাচারের। এবং পথ দেখায় জান্নাতের। অথচ পাশ্চাত্য গণতন্ত্রে সেটি ঘটেনি। বরং বেড়েছে পাপাচার যা অতীতের বহু অন্ধকার অতীতকেও ম্লান করে দিয়েছে।

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মের নামে ভন্ডামি বহু হয়েছে। সাতচল্লিশে যারা ইসলাম ও মুসলমানের নামে আযান দিয়েছে পরবর্তীতে তাদেরই অনেকে মাওবাদ, মার্কসবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষবাদের দোকান দিয়েছে। এরাই একাত্তরে ক্ষমতা লাভের পর ইসলামের পক্ষে সংগঠিত হওয়াকে এদেশে নিষিদ্ধ করেছে। অপর দিকে এরা শুধু সিদ্ধই করেনি বরং প্রচন্ড ভাবে উৎসাহিত করেছে কম্যুনিষ্ট, সোসালিষ্ট ও নাস্তিকসহ ইসলামের সকল বিপক্ষশক্তির সংগঠিত হওয়াকে। অবাধ অধিকার পেয়েছে এমনকি দেহব্যবসায়ীরাও। এদেশে ৭২ থেকে ৭৫ অবধি ইসলামের বিরুদ্ধে যেভাবে বিষোদগার হয়েছে তা বঙ্গ থেকে লক্ষন সেনের বিতাড়নের পর আর কোন সময়ই হয়নি। বাংলাদেশের সেকুলার পক্ষ দেশকে কি আবার সে দিকেই নিয়ে যেতে চান? রাজনীতির স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করার যে ঘোষনা বাংলাদেশের সেকুলার পক্ষটি বার বার দেয় সেটি মূলতঃ নিছক ইসলামী রাজনীতি বন্ধ করার স্বার্থে, ধর্মের নামে যে ব্যবসা হচ্ছে সেটি বন্ধ করার লক্ষ্যে নয়। ভারত-অনুগত ইসলাম-বিরোধী এপক্ষটি সেটিই করেছিল ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ অবধি। কিন্তু রাজনৈতিক সংঘাত কি এতে তীব্রতর হবে না? দেশে সেকুলার পক্ষ এখন ক্ষমতাসীন, রাষ্ট্রের স্টীয়ারিং এখন তাদরেই হাতে। দেশে এখন সংঘাত শুরু হলে সে দায়িত্ব থেকে তারা নিস্তার পাবে না। ঝড় একবার শুরু হলে তাতে শুধু পাতা নয়, অনেক গাছও যে পড়ে যাবে তাতে সন্দেহ আছে কী? তাছাড়া এটি একাত্তর নয়। একাত্তরের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে গেছে বহু পূর্বেই। বাংলাদেশের মুসলমানদের সামনে এখনকার ইস্যু ভিন্নতর। ইস্যু এখন বাঙ্গালীরূপে বাচাঁ নিয়ে নয় বরং সত্যিকার মুসলমানরূপে বাঁচা নিয়ে। কারণ মহান আল্লাহ্‌র দরবারে একমাত্র মুসলমান রূপে বাঁচার সফলতাটুকুই হিসাবে উঠবে, বাঙালী রূপে বাঁচাটি নয়। কিন্তু বাংলাদেশের সেকুলার রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবিগণ অসম্ভবরূপে পরিণত করছে পরিপূর্ন মুসলমানরূপে বাঁচাটি। কারণ পরিপূর্ন মুসলমানরূপে বাচাঁর শর্ত হল সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও দেশের আইন-আদালতকে আল্লাহ্‌র নির্দেশিত কোরআনী আইন মোতাবেক পরিচালনা করা। এক্ষেত্রগুলোতে কুফরী তথা আল্লাহ্‌র অবাধ্যতা বা বিদ্রোহ হলে প্রকৃত মুসলমানরূপে বাঁচা হয় না। আর প্রকৃত মুসলমানরূপে বাচাঁর প্রেরণাই হল মুসলমানদের রাজনীতিতে অংশ নেয়ার মূল প্রেরনা। নবীজী (সাঃ)-এর আমলে আরবের ভেড়ার রাখাল, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দরিদ্র কৃষক এমনকি এক সময়ের কৃতদাসেরা সবাই যে দলে দলে রাজনীতির চরিত্র পাল্টাতে সময় ও সামর্থ্যের বিনিয়োগ করেছেন সেটি তো সে প্রেরণাতেই। রাজনীতিকে তারা ব্যবহার করেছেন সমাজ ও রাষ্ট্র জুড়ে ইসলামের বিজয় আনতে। তারা সে রাজনীতিতে নবীজী (সাঃ)-এর পক্ষে শুধু ভোট বা মৌখিক সমর্থন দিয়ে দায়িত্ব সারেননি। অর্থ, শ্রম ও জীবন দিয়েছেন। রাজনীতি তখন ব্যবহৃত হয়েছে ইসলামের বিজয় হাতিয়ার রূপে। অথচ বাংলাদেশের মত দেশে রাজনীতি ব্যবহৃত হচ্ছে ইসলামের বিজয় রুখতে। সমাজ ও রাষ্ট্র বিপ্লবের এ অতি ক্ষমতাধর অস্ত্রটি এখন ইসলামের বিপক্ষশক্তির কব্জায়। তাদের এ রাজনীতিতে মুসলমানদের রাজস্বের অর্থ, পুলিশ-আদালত এবং প্রশাসন ব্যবহৃত হবে ইসলামী পক্ষের শক্তির নির্মূলে এটিই কি স্বাভাবিক নয়? বাংলাদেশের ন্যায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ইসলামকে পরাজিত রাখা হচ্ছে তো এভাবেই। কথা হল, কোন মুসলমান কি ইসলামের এ পরাজিত অবস্থা মেনে নিতে পারেন? আর মেনে নিলে কি তার ঈমান থাকে? বিচার দিনে মহান আল্লাহর কাছে এ নিয়ে সে জওয়াব দিবে কি করে? কথা হল, কতজন মুসলমানের সে ভয় আছে? আজকের মুসলমানদের মূল রোগতো এখানেই। 

     
    FirstName :
    LastName :
    E-Mail :
     
    OpinionText :
    AvrRate :
    %0
    CountRate :
    0
    Rating :