Give me a good mother,I shall give you a good nation. ‘আমাকে একটি ভাল মা দাও, আমি তোমাকে একটি ভাল জাতি উপহার দেব।’
উল্লেখ্য, এমন আমূল উত্তম জাতি দিয়ে সারা বিশ্বে বিজয়ী হতে পারে ইসলাম ও মুসলিম জাতি আর বিশ্ব পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে সুখ, শান্তি, পারষ্পরিক নিরাপত্তা ও স্হিতিশীলতায়। ফলে কায়েম হবে পারষ্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি। আর এভাবেই হয়ে উঠতে পারে এই মর্তের পৃথিবীটা একটি জান্নাত হিসাবে।
কবি তাই বলেছেন :
“প্রীতি ও প্রেমের পূন্য বাঁধনে সবে মিলি পরষ্পরে, স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরই কুড়ে ঘরে।”
পথ নির্দশাবলী
বোন হে,
যারা পর্দার তথা হিজাবের ব্যাপারে আল্লাহ্র সিদ্ধান্তের পর নিজস্ব পান্ডিত্ব প্রকাশ করতে চান, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর ঘোষণা হল আল কোর’আনের ভাষায় : “আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয়ের নির্দেশে কিংবা ফায়সালা করে দিলে কোন ঈমানদার পুরষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোন অধিকার নেই। আর যে, কেউ আল্লাহ্ ও তার রাসূলের আদেশ অমান্য (নাফারমানী) করবে সে প্রকাশ্যে পথভ্রাষ্টতায় পতিত হবে।” (সূরা আহ্যাব, ৩৩ : আয়াতা৩৬)
অনুরূপ যারা নিজেদের বিচার বুদ্ধি, স্বকীয়তা এবং আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের (সা:) আনুগত্যের প্রতি কোনরূপ গুরত্ব না দিয়ে ঢালাওভাবে অন্যের অনুসরণ করে সত্য পত বিচ্যুতবস্হায় জীবন পরিচালনা করতো এবং করে তাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্র রাসূল (সা:) এরশাদ করেছেনঃ
“তোমাদের কেউ যেন এরকম সেবাদাস না হয় যে, সে বলবে আমি চলছি মানুষদের সাথে। সুতরাং মানুষ যদি ভাল কাজ করে, তাহলে আমি ভাল কাজ করব আর মানুষ যদি খারাপ কাজ করে তাহলে আমিও খারপ কাজ করব। বরং তোমরা নিজেরা নিজেদের এমনবাবে প্রস্তুত করে নাও যে, তোমরাই মানুষদের নিয়ে ভাল কাজ করবে। আর যদি কেউ খারাপ কাজ করতে চায় তখন নিজেরা খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে।”
এবার তার উদ্দেশ্যে বলতে চাই। “যিনি বলেন যে, যদি আমি এই আধুনিক সমাজে হিজাব পরি, তাহলে লোকেরা আমার দিকে তাকাবে ঠাট্টা-বিদ্রপ ও হাসি-তামাসার দৃষ্টিতে। কিন্তু যদি না পরি, তাহলে আমিও হয়ে গেলাম আধুনিক! আর তখনই মানুষ আমাকে এমনটা করবে না, কেননা আমি তো তাদের মতই”।
হে জ্ঞানী গুণী ও বিদূষী মহিলা! জেনে রেখ, নিশ্চয়ই আধুনিক সমাজে ইসলামী বৈশিষ্ট্যে নিজেকে গুছাতে গিয়ে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্হা থেকে ব্যতিক্রম হওয়াটাই হল ঈমান এবং ঈমানের দাবি। যে দিকে তোমাকে আহবান করছেন, তোমার পুত-পবিত্র রব তথা সৃজন-রক্ষণ-পালন ও বিবর্ধন কর্তা। আল্লাহ নিজে পর্দার তথা হিজাবের ব্যাপারে হুকুম করার পরে এ বিষয়ে ব্যক্তিগত কোন অভিমত খাটানো কোন মুসলিমের পক্ষে জায়েয নয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী
বোন হে,
যারা আধুনিকতা তথা পশ্চিমা ইয়াহুদি-নাছারাদের আচার-আচরণের সামনে নিজেদের পরাজিত বলে মেনে নিয়েছে। তাদের বলো যে, তারা পশ্চিমা আধুনিকতাকে তথা ইয়াহুদী উদ্দেশ্য করে বলুক, হে আমাদের মুনিবেরা! আমরা তোমাদের থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করেছি, তোমাদের থেকেই আমরা হয়েছি ডাক্তার, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আর তোমাদের থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে আমরা সর্বাগ্রে উপেক্ষা করে চলেছি ইসলামী বিধি নিষেধ, এমনকি চাল-চলনে আমরা এতদূর এগিয়েছি যে, আমাদের মধ্যে কে পুরষ ও কে মহিলা তার ভেদাভেদও উঠে গেছে। তবুও কি তোমরা আমাদের প্রতি সন্তষ্ট?
কোর’আনে কারীমে এই প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে :
“ইয়াহুদী ও খৃষ্টানগণ কখনো তোমার প্রতি সন্তষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর।” (সূরা বাকারা, ২: আয়াত ১২০)
অর্থাৎ তারা উত্তরে বলবে, আমরা তোমাদের প্রতি একারণেই সবচেয়ে কম সন্তষ্ট যে, তোমরা ধর্মাদর্শে এ পর্যন্ত মুসলিম। পক্ষন্তরে জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প, সংস্কৃতি, চাল-চলন, পোশাক-পরিচ্ছদ, চিন্তা-চেতনা এমনকি দুনিয়ার সামগ্রিক বিষয়ে তোমরা আমাদের অনুসরণ অনুকরণ করতে পার। তবে তোমাদের প্রতি আমাদের পরিপূর্ণ সন্তষ্টির একটি শর্ত, তোমরা আমাদের ধর্মাদর্শ গ্রহণ করা।
বলা যায়, কারো শিল্প, সংস্কৃতি, চাল-চলন, পোষাক-পরিচ্ছদ, চিন্তা-চেতনা এমনকি দুনিয়ার সামগ্রিক বিষয়াবলীতে অনুসরণ ও অনুকরণ করলে অনতিবিলম্বে তার ধর্মাদর্শের অনুসরণ ও অনুকরণ হয়ে যায়। এটি হলো স্বতঃসিদ্ধ কথা।
আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেছেন :
তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিদের ধর্মাদর্শকে এমনভাবে আস্তে আস্তে অল্প অল্প করে, এক হাত এক হাত করে অনুসরণ অনুকরণ করবে শেষ পর্যন্ত তারা যদি হিংস্র জন্তুর গুহায়ও প্রবেশ করে তাহলে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। সাহাবায়ে কিরাম বললেন: হে আল্লাহর রাসূল ! পূর্ববর্তী জাতি বলতে কি ইয়াহুদী নাছারা? রাসূলুল্লাহ (সা:) উত্তরে বললেন: এরা ছাড়া আর কারা? (মুসলিম)
বোন হে,
তোমার জন্যে একান্ত কর্তব্য যে, তুমি কোর’আন ও হাদীস থেকে জীবন পরিচালনার সামগ্রিক বিষয়ে সঠিক জ্ঞান আহরণ করবে এবং বাস্তবে এই জ্ঞানের স্বাদ আস্বাদন করবে। আর অতি গুরত্ব দিবে তোমার পোষাক-পরিচ্ছদের দিকে যাতে করে তোমার জীবনের কোন স্তরে বা কোন পর্যায়ে আল্লাহ্র আইন ও আদেশ লংঘিত না হয়। তাহলেই তুমি হয়ে উঠবে একটি উসওয়া বা আদর্শ নমুনা। কবি এই বিষয়ের উৎসাহ দিতে গিয়ে খুব সুন্দর ভাষায় বলেছেন?
“হে দেহের চাকর কত কষ্ট করবে তুমি দেহের লাগিয়া। যেখানে সার্বিক ক্ষতি, সেখানে কি করবে তুমি লাভ জানিয়া।
রুহের দিকে এগিয়ে আস পূর্ণ কর তার সফলতা রুহ দিয়েই তুমি মানুষ হও, শুধু দেহ দিয়ে মানুষ নও।”
বোনটি আমার,
তুমি আল্লাহ্র দ্বীনের জন্যে নিজের জ্ঞান এবং মাল অকাতরে বিলিয়ে দেয়ার ব্যাপারে খাদিজাতুল কুবরা (রা:) এর অনুসরণ করবে। আর দ্বীনের জ্ঞান আহরণ, অন্বেষণ ও বিলিয়ে দেয়ার ব্যাপারে আয়েশা সিদিদকাহ্ (রা:) এর অনুসরণ করবে। আর আল্লাহ্র দ্বীনের উপর অটল থাকার শক্তি, সাহসিকতার ব্যাপারে অনুসরণ করবে আলে ইয়াসিরকে। (আম্মার বিন ইয়াসির তথা সুমাইয়্যা (রা:) এর পরিবার যিনি ইসলামে প্রথম মহিলা শহীদ)
তাহলেই জীবনের সর্বশ্রেষ্ট সোপানে পৌঁছতে সক্ষম ও সার্থক হবে।
হে আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের মাতা! কবির কথার উপর একটু চিন্তা কর :
“মা হল একটি শিক্ষা নিকেতন। যখন তুমি তাকে তেমন করে গঠন করবে। তাহলে গঠন করলে এমন একটি জাতি যারা মূলতই উৎকৃষ্ট বা উৎকৃষ্ট ধমনী দিয়ে গঠিত।
মা হল একটি কানন যদি তাকে সুশিক্ষা লজ্জা ও শালীনতা রসে সিঞ্চিত ও সংরৰণ করো তাহলে সে সত্যিই (সন্তান-সন্ততি নিয়ে) পত্র পল্লবে আচ্ছাদিত ও সুশোভিত বাগানের ন্যায় ফুটে উঠবে। মা হল সকল শিক্ষকের প্রথম শিক্ষক। যার গুণপনা ও কৃর্তিকলাপই যুগ-যুগান্তর ধরে জগতে সুখ্যাতি অবশিষ্ট রেখেছে।”
মুসলিম বোনটি,
যদি তোমার এমন একটি ছবি থাকে যেটা তোমার মূল আকৃতি ও গঠনের সাথে বিপরীত অর্থাৎ কুৎসিত অথবা তুমি হয়ে পড় বয়স্কা ও বৃদ্ধা। তাহলে কি তোমার সেই ছবিটি বা এই অবস্হার একটি ছবি দিয়ে আধুনিকতার ধ্বজাধারীরা পত্রিকার প্রচ্ছদ দিতে রাজি হবে এই বলে যে, তুমি একজন সংস্কৃতি-মনা মহিলা?
অনুরূপ তুমি যদি হও হিজাব পরিহিতা একজন সম্ভ্রান্ত মহিলা, তাহলে কোন দিন কি তোমাকে কেউ বিমান বালার চাকুরী দিবে?
অনুরূপ ভাবে তুমি যদি হও চেহারার দিক থেকে একটু কুৎসিৎ তাহলে কি কেউ তোমাকে একটু মডেলিং এর জন্যে আহ্বান জানাবে?
কখনো নয় বরং মোদ্দা কথা হল, বর্তমান বিশ্বের আধুনিকতার ধ্বজাধারীরা আধুনিকতার নামে চায় তোমার সুন্দর চেহারা, পেতে চায় একটু পরিতৃপ্তি, চায় তোমার সুন্দর ও মধুর কন্ঠ।
তবে শুনে রাখ, যখন থেকে তোমার চেহারা ও মধুর কণ্ঠ তাদের পরিতৃপ্তি ও আত্মতৃপ্তি দানে ব্যর্থ হয়ে পড়বে, তখন হয়ে পড়বে তুমি নিঃস্ব অসহায় ও নিঃসম্বল।
সুতরাং আগে থেকেই নিজকে সংরক্ষণ কর এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সূর্যকে নিজের জীবনে আলো দানের সুযোগ করে দাও, তবেই হবে সফলকাম।
সাবধান
রাসূলুল্লাহ (সা:) এরশাদ করেছেন :
“আমার পরে মহিলা ফিৎনাই পুরষদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্হ করবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
বহু চিন্তা, গবেষণা ও পর্যবেক্ষনের পর ইসলামের শত্ররা এই সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছে যে, মহিলাদের চরিত্র ধ্বংসের মাধ্যমেই গোটা সমাজকে ধ্বংস করে দেয়া যায়।
তাই মানবতার শত্রু ইয়াহুদীদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক রাব্বী বলেছেন যে : “এমন যন্ত্র আছে, যা উম্মতে মুহাম্মাদীকে ধ্বংসের ব্যাপারে এক হাজার কর্মীর চেয়েও অধিক কার্যকর তা হল চরিত্রহীন মহিলা। সুতরাং এদের ধ্বংস করতে হলে প্রবৃত্তির অনুসরণের দিকে ঠেলে দাও।
আরেক রাব্বী এমনও বলেছেন যে : “আমাদের উচিত আধুনিকতার নামে মেয়েদের নগ্নতা, বেহায়পনা ও চরিত্রহীনতার দিকে ঠেলে দেয়া। কেননা যে দিন আমরা এদের উলঙ্গ করে চরিত্রহীন অবস্হায় ছেড়ে দিতে পারব, তখন তারাই হবে এমন এক দুঃসাহসী বিজয়িনী সৈনিক, যারা উম্মতে মহাম্মাদীকে ধ্বংস করে সার্থক বিজয় নিয়ে আমাদের কাছে ফিরে আসবে।”
ভয়াবহ পরিণতি
যারা চায় আকর্ষিতা হয়ে সমাজ-বিধ্বংসী বোমায় পরিণত হতে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাকের ঘোষণা, যা কোর’আনের ভাষায় :
“যারা চায় বা কামনা করে যে, ঈমানদার লোকদের মধ্যে নির্লজ্জতা (ব্যভিচার) বিস্তার লাভ করুক। নিশ্চয়ই তাদের জন্যে দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েচে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির। আর আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।” (সূরা নূর, ২৪: আয়াত ১৯)
বোন হে,
একটু চিন্তা কর, আল্লাহর এই ঘোষণা হল শুধু তাদের জন্যে, যারা মনে মনে চায় বা আকাঙ্খা করে, কিন্তু বাস্তবে যারা মু’মিনদের মধ্যে এই ব্যভিচার বিস্তারে ব্যস্ত ও তৎপর তাদের পরিণতি কি হবে?
(একদল জাহান্নামী, যাদের আল্লাহর রাসূলও (সা:) দেখেন নি, কিন্তু আমরা দেখছি।)
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুলস্নাহ (সা:) এরশাদ করেছেন :
“দুই দল নিকৃষ্ট জাহান্নামী, যাদের আমিও দেখিনি, এদের একটি হল এমন একদল লোক, যাদের হাতে সর্বদাই থাকে চাবুক যা দেখতে গরুর লেজের ন্যায় দেখায়, যা দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করে। (অর্থাৎ যারা সর্বদাই অন্যায়ভাবে মানুষদের প্রতি যুলুম করে চলে)। আর অপর দলটি হল এমন মহিলা যারা অর্ধনগ্ন অবস্হায় কাপড় পরিধান করে। ফলে তারা লোকদের আকৃষ্ট ও আকর্ষণ করে এবং তারাও হয় দুষ্ট লোকদের দ্বারা আকর্ষীতা এবং ব্যাভিচারের শিকার। তাদের মাথা যেন উঁচু কুঁজ বিশিষ্ট চলনৱ উটের ন্যায়। এরা কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি জান্নাতের গন্ধও পাবে না। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ (সা:) জাহান্নামে এদরে অবস্হানের দূরত্বের আধিক্য বুঝাতে বলেছেন : “জান্নাতের সুঘ্রাণ এত এত দুরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে।”
উল্লেখিত হাদীস শরীফে রাসূল (সা:) দুষ্ট-লম্পট চরিত্রহীনা ও অসভ্য মহিলাদের এক পরিচিতি তুলে ধরেছেন।
আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেছেন, তারা হল :
“পোষাক পরিহিতা উলঙ্গ অর্থাৎ এমনভাবে কাপড় পরে, যাতে তাদের অর্ধনগ্ন দেখায় অথবা এমন কাপড় পরে যাতে তার শরীরের সকল অঙ্গ-প্রতঙ্গ এমনিতেই ষ্পষ্ট দেখা যায়।।”
আল্লাহ্র আনুগত্য থেকে বিমুখ এবং আকৃষ্টকারিণী, যে লজ্জা শরম কি তা বুঝেই না এবং পর্দার ধারে কাছেও আসে না বরং সর্বদা নিজের প্রবৃত্তিকেই অনুসরণ করে চলে।
আকৃষ্ট বা আকর্ষিতা। যে চলাফেরা ও কাজকর্মের দ্বারা পরপুরষ কর্তৃক আকৃষ্ট হয়, ব্যভিচারিত হয়। কিন্তু সে এতে কোন অপমান বোধতো করেই না বরং এটাই সে চায়।
অর্থাৎ, তাদের মাথা হল উঁচু কুঁজ বিশিষ্ট চলন্ত উটের ন্যায়। এই সমস্ত মেয়েরা নিজেদের চুলকে উপর দিকে দাঁড় করিয়ে বাঁধে এবং হাটার সময় মাথাটাকে উন্মুক্ত করে উটের ন্যায় অগ্রসর হয়।
প্রত্যেক পিতার উদ্দেশ্য
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার ঘোষণা হলো :
“হে ঈমানদার লোকেরা, নিজেকে এবং স্বীয় পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয় কঠোর স্বভাব ফেরেশতাগণ। আল্লাহ্ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা তারা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয় তাই তারা করে।: (সূরা তাহ্রীম, ৬৬ : আয়াত ৬)
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আলী বিন আবি তালিব (রাঃ) বলেছেন, ‘তাদের আদব-কায়দা তথা ইসলামী শিষ্টাচার এবং দুনিয়ার সুষ্ঠ জীবন যাপনের (পরিচালনার) প্রয়োজনীয় জ্ঞান শিক্ষা দাও।’
কাতাদাহ (রা:) বলেছেন : ‘তোমরা তাদের (তোমাদের পরিবার-পরিজনকে) আল্লাহ্র আনুগত্যের নির্দেশ দাও এবং তাঁর নিষেধাবলী থেকে বেঁচে থাকার উপদেশ প্রদান করো।
ওহে পিতা,
ইঞ্জিনিয়ার যদি তোমাকে তোমার নির্মাণাধীন বাড়ি সম্পর্কে বলে : ‘তোমারে দালানে ভিত্তি মজবুত হয়নি সুতরাং এটাকে আরো বড় করার পূর্বেই ঠিক করে নেয়া উচিত। নতুবা এটা অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে।’ তখন তুমি কি করবে?
অবশ্যই তুমি তোমার সর্বশক্তি দিয়ে একে ভেঙ্গে ফেলে ভিত্তিটা মজবুত করে গড়ে তুলবে এবং এ ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবে।
সত্য এমনটি নয় কি?
যদি তাই হয়। তাহলে তুমি তোমার আগামী উত্তরাধিকারী বা বংশধর নামক দালানের ভিত্তি অর্থাৎ তোমার কন্যার ব্যাপারে কি করবে ও করেছ? অথচ এই সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ্ তোমাকে নির্দেশ দিয়েছেন সর্বশক্তি দিয়ে তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে।
সুতরাং তুমি তোমার পক্ষ থেকে তার জন্যে কি পেশ করেছ?
ওহে পিতা,
ঐ সমস্ত নির্লজ্জ যুবতীরা, যারা আল্লাহ্র আদেশ-নিষেধের প্রতি কোনরূপ ভ্রক্ষেপ করে না বরং স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরনেই নিজেরা মত্ত তারা কি আসমান থেকে পতিত হয়েছে? না যমীনে নীচ থেকে অংকুরিত হয়ে ফুটে উঠেছে?
কোনটিই নয় বরং তারা বের হয়েছে তোমার ঘর থেকে এবং তোমার অন্য মুসলিম ভাইয়ের ঘর থেকে।